প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার ও দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সমঝোতা স্মারক দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক। চুক্তির প্রধান বিষয়গুলো হলো:
স্বাক্ষরকারী: বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
জ্বালানি বহুমুখীকরণ: সাশ্রয়ী মূল্য ও সাপ্লাই চেইনের টেকসইতার ভিত্তিতে তেল, গ্যাস, ভূতাপীয় ও জৈবশক্তি বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞান বিনিময়ে দুই দেশ একে অপরকে সহযোগিতা করবে।
আমদানিতে সুবিধা: এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে এলএনজি (LNG), এলপিজি (LPG) এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির পথ প্রশস্ত হলো।
কৌশলগত গুরুত্ব: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই সময়ে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই চুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এই উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট একে একটি 'ঐতিহাসিক অগ্রগতি' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জ্বালানি খাতের এই সহযোগিতা ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও কয়লা নির্ভরতা (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে তৎকালীন বঙ্গ অঞ্চলে শক্তির প্রধান উৎস ছিল কয়লা। তখন আমেরিকার সাথে এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল মূলত পাট ও নীল চাষ কেন্দ্রিক। ১৯০০ সালের সেই পাল তোলা জাহাজের আমল থেকে ২০২৬ সালের এই এলএনজি ট্যাঙ্কারের যুগে পৌঁছে দুই দেশের অর্থনৈতিক বন্ধন বহুগুণ শক্তিশালী হয়েছে।
তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান (১৯৭১-১৯৯০): স্বাধীনতার পর সত্তর ও আশির দশকে মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে যুক্ত হয়। ১৯০০ সালের পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদাই আজ আমেরিকাকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান জ্বালানি অংশীদারে পরিণত করেছে।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর নতুন পররাষ্ট্রনীতি: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে পররাষ্ট্রনীতিতে এক ধরণের ভারসাম্য ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের এই মে মাসে ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি তারই প্রতিফলন।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই সীমাবদ্ধ জ্বালানি ব্যবস্থা থেকে ২০২৬ সালের এই আধুনিক বহুমুখী জ্বালানি আমদানির যুগে পৌঁছে বাংলাদেশ এখন তার ক্রমবর্ধমান শিল্পের চাকা সচল রাখতে সক্ষম হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই সমঝোতা ২০২৬ সালের অর্থনীতির জন্য একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
ইতিহাস সাক্ষী, যে দেশ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে, তারাই অর্থনৈতিকভাবে সফল হয়। ১৯০০ সালের সেই অনুন্নত কৃষিপ্রধান বঙ্গ থেকে ২০২৬ সালের উদীয়মান শিল্পোন্নত বাংলাদেশ—এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় জ্বালানির ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ২০২৬ সালের মে মাসের এই ঐতিহাসিক চুক্তি কেবল তেল-গ্যাস আমদানির বিষয় নয়, এটি দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ের এক বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে এই সমঝোতা স্মারকটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
সূত্র: ১. ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (১৪ মে, ২০২৬)।
২. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্ক ও জ্বালানি সহযোগিতার বিবর্তন (১৯৭১-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |